18 December, 2011

ব্লগ হোক প্রতিটি সচেতন মানুষের প্রানের কথা বলার সবুজ জমিন।


২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা কমিউনিটি ব্লগের যাত্রা শুরু। এ অবদান এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে ২০০৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রথমবার পালিত হয় বাংলা ব্লগ দিবস। এবছরও ১৯ ডিসেম্বর (সোমবার) বিকেল পাচটায় পাবলিক লাইব্রেরিতে তৃতীয় বাংলা ব্লগ দিবস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহন করার জন্য একটি নিমন্ত্রন ই-মেইলে পেয়েছি-সামহোয়‌্যার ইন ব্লগ এডমিনের পক্ষ থেকে আর বিডি ক্লগের নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে। আমন্ত্রনটিকে আমি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি কারন এই ব্লগ সাংস্কৃতি একটি বিপ্লব হয়ে ধরা দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র আর সেই বিপ্লবের একজন সদস্য হিসাবে আমি সহ প্রতিটি ব্লগারের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন এতে অংশগ্রহন করা।

খুব ছোট বেলায় যখন কিছুটা বুঝতে শিখেছি,ঠিক তখন থেকেই কিছু কবিতা-গণ্প লিখার একটা প্রবনতা ছিল নিজের মধ্যে। লিখা হত কিন্তু মনের মাঝে আক্ষপ থেকেই যেত লেখাটা যদি প্রকাশ করতে পারতাম বা আরো অনেকে আমার লেখাটুকু পড়তো তা হলেই না লেখাটার সার্থকতা খুজে পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে যে ভাবে মুহুর্তের মধ্যে কিছু লিখে অথবা যে কোন বিষয়ের উপর আমার কিছু বলার থাকলে খুব সহজেই ব্লগের মাধ্যমে আমার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে পারি তখন আনমনে ভাবি আমি যা পেয়েছি যৌবনে আমার সন্তান তা পাবে কৈশরে বা আরো ছোটকালে। তার চিন্তা চেতনা এবং সমাজ নিয়ে ভাবনা কিংবা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকবে কতটা প্রগতিশিল।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে একটি উপলদ্ধির উপর বেশ জোর দিয়েই বলতে চাই,আমার ভাবনার সাথে সবার একমত হতে হবে তা বিশ্বাস করি না। তবে আমার বিশ্বাস বা মতকে তুলে ধরার পর কেউ যদি তা যুক্তিযুক্ত পরামর্শ এবং গঠন মুলক সমালোচনার মাধ্যমে খন্ডন করে আমাকে তার মতের সাথে একমত হতে বাধা কোথায়। প্রতিটি মানুষের চিন্তা চেতনা আর ভাবনার জগৎ একই রকম হবে ভাববার যেমন কোন কারন নেই ঠিক তেমনি সবাইকে আপনার মতের সাথে একমত হতেই হবে এটা ভাবাও কোন সঠিক পথ নয়। একেকটি মানুষ একেকটি ভিন্ন পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক-সামাজিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। তার বেড়ে ওঠা পরিবেশের কোন ঘাটতির কারনে অনেক সময় তার নিজিস্ব চিন্তা চেতনা ও মনোভাব,আচার-আচরনে প্রস্ফুটিত হয়। ব্লগে লিখা কিংবা কোন লেখার মন্তব্য গুলি দেখলে তাদের ভিন্ন মত আমাদের অনেক সময় হতাশ হতে হয় আবার কখনো করে তুলে ঝগড়াটে যা কখোনোই কাম্য নয়। এ বিষয়ে এক সাক্ষাকারে বাংলা ব্লগিং জগতের নক্ষত্র সামহোয়্যার ইন ব্লগের হেড অব অ্যালিয়েন্স গুলশান ফেরদৌস জানা বলেছেন-
                                    ‘ব্লগ সংস্কৃতি’ কোন ভাবেই একে অন্যকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ থেকে দ্বিমত বা ভিন্নমত প্রকাশের এবং পারস্পরিক আলোচনা-সমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ খোলা মাঠ যেখানে সকলের স্বাধীন বিচরণের অধিকার রয়েছে।

বাংলা ব্লগিংয়ের শক্তি ও সম্ভাবনাকে আরও নিবিড়ভাবে বিস্তৃতি করতে গত দুবছর যাবৎ বাংলা ব্লগ দিবস পালিত হয়ে আসছে। প্রতিনিয়তই জন্ম নিচ্ছে অনেক নতুন নতুন ব্লগ প্লাটফর্মের আর তার সাথে দিনকে দিন বেড়ে চলছে ব্লগারের সংখ্যা। তবে এ পর্যন্ত আমার দেখা ব্লগগুলির মাঝে বেশীরভাগেই একটি বিষয়ে সুনিশ্চিত ভাবেই বলা যায় দেশ প্রেম এবং স্বাধীনতা সার্ভভৌমত্ব আর সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোন ভুল সিদ্ধান্ত এবং যে কোন জাতীয় ইস্যুর সমালোচনায় তারা কখোনো পিছপা হয় না। যদিও ব্যাপারটি ব্লগারদের মাঝ থেকেই উচ্চারিত হয় তবে প্লাটফর্ম তৈরি করে এই মত প্রকাশের স্বাধীনতাটুকু কিন্তু ব্লগ কতৃপক্ষই করে দিচ্ছে। তাই ব্লগ যেমন সবার জন্য উন্মুক্ত ঠিক তেমনি নতুন ব্লগারদের ধরে রাখতে এবং এর তাৎপর্য সর্বোপরি এর সুবিশাল বিস্তৃতির পথে বেশী করে নতুন ব্লগার তৈরি করায় পুরোনো ব্লগারদের পাশাপাশি ব্লগ কতৃপক্ষকে হতে হবে আরো যত্নশীল এবং উদার মনা।

শুভ হোক ব্লগদিবসের সকল আয়োজন,ব্লগ হোক প্রতিটি সচেতন মানুষের প্রানের কথা বলার সবুজ জমিন।

13 December, 2011

চলুন এক নজরে দেখি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষনা পত্রটি


প্রথম কথা

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষনা পত্রটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিটি মানুষের সাম্যক ধারণা থাকা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়টি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে আপনি কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন কি না কিংবা আপনার উপর মানবাধিকার লঙ্ঘন জনিত কোন অন্যায় হচ্ছে কি না তা বুঝতে সুবিধা হয়। অনেক সময় আমরা অজান্তেই এই অপরাধে অপরাধি হচ্ছি আবার কখনও নিজের উপর হওয়া কোন অপ্রিতিকর ঘটনা টুকু মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ছে কি না তা বুঝতে এই বিষয়ে সবার একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা একান্ত প্রয়োজন। আর সেই লক্ষে জাতিসংঘ কতৃক সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা পত্রটি আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। 

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ 
প্রত্যেক ব্যাক্তি ওসমাজের প্রত্যেক অঙ্গ মানবিক অধিকারসমুহ এই সার্বজণীন ঘোষনা পত্রটি সর্বদা স্মরন রেখে শিক্ষাদান ও জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমে এ সকল অধিকার ও স্বাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রগতিশীল ব্যাবস্থাদির দ্বারা সদস্য-রাষ্ট্র সমুহের জনগন ও তাদের অধীনস্থ অঞ্চল সমুহের অধিবাসীবৃন্দ উভয়ের মধ্যে ঐ গুলোর সর্বজনীন ও কার্যকর স্বীকৃতি ও মান্যতা অর্জনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাবে।


ধারা-০১
বন্ধনহীন অবস্থায় এবং সম-মর্যাদা ও অধিকারাদি নিয়ে সকল মানুষই জন্মগ্রহণ করে। বুদ্ধি ও বিবেক তাদের অর্পন করা হয়েছে;অত এব ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে তাদের একে অন্যের প্রতি আচরন করা উচিৎ।

ধারা-০২
যে কোন প্রকার পার্থক্য যথা: জাতি,গোত্র,বর্ণ,নারী-পুরুষ,ভাষা,ধর্ম,রাজনৈতিক বা অন্য মতবাদ,জাতীয় বা সামাজিক উৎপত্তি,সম্পত্তি,জন্ম বা অন্য মর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ঘোষনা পত্রে উল্লিখিত সকল অধিকার ও স্বাধিকার স্বত্ববান। অধিকন্তু,কোন ব্যাক্তি যে দেশ বা অঞ্চলের অধিবাসি তা স্বাধীন,অছিভুক্ত এলাকা,অস্বায়ত্বশাসিত অথবা অন্য যে কোন প্রকার সীমিত সার্বভৌমেত্বের মধ্যে থাকুক না কেনো,তার রাজনৈতিক,সিমানাগত ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা চলবে না।

ধারা-০৩
প্রত্যেকেরই জীবন-ধারন,স্বাধীনতা ও ব্যাক্তি নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।

ধারা-০৪
কাউকে দাস হিসাবে বা দাসত্বে রাখা চলবে না;সকল প্রকার দাস প্রথা ও দাস ব্যাবসা নিষিদ্ধ থাকবে।

ধারা-০৫
কাউকে নির্যাতন অথবা নিষ্ঠুর,অমানুষিক অথবা অবমাননাকর আচরন অথবা শাস্থি ভোগে বাধ্য করা চলবে না।

ধারা-০৬
আইনের সমক্ষে প্রত্যেকেরই সর্বত্র ব্যাক্তি হিসাবে স্বীকৃতি লাভের অধিকার রয়েছে।

ধারা-০৭
আইনের কাছে সকলেই সমান এবং কোনরূপ বৈষম্য ব্যাতিরিকে সকলেরই আইনের দ্বারা সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ঘোষনা পত্রের লঙ্ঘনজনিত বৈষম্য বা এরূপ বৈষম্যের উস্কানির বিরুদ্ধে সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার সকলের আছে।

ধারা-০৮
যে কার্যাদির ফলে শাসনতন্ত্র বা আইন কতৃক প্রদত্ত মৌল অধিকার সমুহ লঙ্ঘিত হয় সে সবের জন্য উপযুক্ত জাতীয় বিচার আদালত মারফত কার্যকর প্রতিকারের অধিকার প্রত্যেকের আছে।

ধারা-০৯
কাউকে খেয়াল খুশি মত গ্রেফতার বা আটক করা যাবে না।

ধারা-১০
প্রত্যেকে তার অধিকার ও দায়িত্ব সমুহ এবং তার বিরুদ্ধে আনিত যে কোন ফৌজদারি অভিযোগ নিরুপনের জন্য পুর্ণ সমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার আদালতে ন্যায্যভাবে ও প্রকাশ্যে শুনানি লাভের অধিকার রয়েছে।

ধারা-১১
ক. কোন দন্ডযোগ্য অপরাধে অভিযোগে অভিযুক্ত হলে প্রত্যেকের আত্মপক্ষ সমর্থনের নিশ্চয়তা দেয় এমন গণ-আদালত কতৃক আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্থ না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকেই কোন কাজ বা ত্রটির জন্য দন্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্থ করা চলবে না,যদি সংঘটনকালে তা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দন্ডযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য না করা হয়ে থাকে;আবার দন্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনকালে যতটুকু শাস্তি প্রযোয্য ছিল তার চেয়ে অধিক শাস্তি প্রয়োগ চলবে না।

ধারা-১২
কাউকে তার ব্যাক্তিগত গোপনিয়তা,পরিবার,বসত বাড়ী বা চিঠি পত্রের ব্যাপারে খেয়াল খুশি মত হস্তক্ষেপ অথবা সম্মান ও সুনামের ওপর আক্রমন করা চলবে না।

ধারা-১৩
ক. নিজ রাষ্ট্রের সিমানার মধ্যে চলাচল ও বসতি স্থাপনের অধিকার প্রত্যেকের আছে।
খ. প্রত্যেকেরই নিজ দেশসহ যে কোন দেশ ছেড়ে যাওয়ার এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অধিকার রয়েছে।

ধারা-১৪
ক. নির্যাতন এরানোর জন্য প্রত্যেকেরই অপর দেশসমুহে আশ্রয় প্রার্থনা ও আশ্রয় লাভের অধিকা রয়েছে।
খ.অরাজনৈতিক অপরাধসমুহ অথবা জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মুলনিতি বিরোধী কার্যালাপ থেকে সত্যিকারভাবে উদ্ভুত নির্যাতনের ক্ষেত্রে এই অধিকার নাও পাওয়া যেতে পারে।

ধারা-১৫
ক. প্রত্যেকেরই একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকেই যথেচ্ছাভাবে তার জাতিয়তা থেকে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার জাতীয়তা পরিবর্তনের অধিকার অস্বীকার করা চলবে না।

ধারা-১৬
ক.পূর্ণ-বয়স্ক পুরুষ ও নারীদের জাতিগত , জাতীয়তা অথবা ধর্মের কারনে কোন সিমাবদ্ধতা ব্যাতিরেকে বিবাহ করা ও পরিবার গঠনের অধিকার রয়েছে। বিবাহের ব্যাপারে ,বিবাহিত অবস্থায়  এবং বিবাহ বিচ্ছেদকালে তাদের সম-অধিকার রয়েছে।
খ. কেবল মাত্র বিবাহ ইচ্ছুক পাত্র পাত্রীর অবাধ ও পুর্ন সম্মতির দ্বারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে।
গ. পরিবার হচ্ছে সমাজের স্বাভাবিক ও মৌলিক একক গোষ্ঠী;সমাজ ও রাষ্ট্র কতৃক এর সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

ধারা-১৭
ক. প্রত্যেকেরই একাকী এবং অপরের সহযোগীতায় সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ.কাউকেই তার মস্পত্তি থেকে খেয়াল খুশি মত বঞ্চিত করা চলবে না।

ধারা-১৮
প্রত্যেকেরই চিন্তা,বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। নিজ ধর্ম অথবা বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতা এবং একাই অথবা অপরের সাথে যোসাজেসে ও প্রকাশ্যে বা গোপনে নিজ ধর্ম বা বিশ্বাস শিক্ষাদান,প্রচার,উপাসনা ও পালনের মাধ্যমে প্রকাশ করার স্বাধীনতা এই অধিকারের আওতা ভুক্ত।

ধারা-১৯
প্রত্যেকেরই মতামত প্রকাশের স্বাধীকার রয়েছে; বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষন এবং যে কোন উপায়ে ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান,গ্রহন ও গাত করার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।

ধারা-২০
ক. প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্নভাবে সম্মিলিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. কাউকেই কোন সংঘভুক্ত হতে বাধ্য করা যাবে না।

ধারা-২১
ক.প্রত্যক্ষভাবে অথবা অবাধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশের সরকারে অংশগ্রহনের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।
খ.প্রত্যেকেরই নিজ দেশের সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার রয়েছে।
গ.জনগনের ইচ্ছাই হবে সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি; এই ইচ্ছা সর্বজনীন ও সমান ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নৈমিত্তিকভাবে এবং প্রকৃত নির্বচন দ্বারা ব্যাক্ত হবে; গোপন ব্যালট অথবা অনুরুপ অবাধ ভোটদান পদ্ধতিতে এরুপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ধারা-২২
সমাজের সদস্য হিসাবে প্রত্যেকেরই সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে;প্রত্যেকেরই জাতীয় প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এবং রাষ্ট্রের সংগঠন ও সম্পদ অনুসারে তার মর্যাদা ও অবাধে ব্যাক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য অর্থনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সমুহ আদায় করতে পারবে।

ধারা-২৩
ক.প্রত্যেকেরই কাজ করার,অবাধে চাকরি নির্বাচনের,কাজের জন্য ন্যায্য ও অনুকুল অবস্থা লাভের এবং বেকারত্ব থেকে রক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ.প্রত্যেকেরই কোন বৈষম্য ভ্যাতিরিকে সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
গ. প্রত্যেক কর্মি তার নিজের ও পরিবারের মানবিক মর্যাদা রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম এমন ন্যায্য ও অনুকুলে পারিশ্রমিক এবং প্রয়োজনবোধে সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী।
ঘ. প্রত্যেকেরই নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন ও এতে যোগদানের অধিকার রয়েছে।

ধারা-২৪
প্রত্যেকেরই বিশ্রাম ও অবসর বিনোদনের অধিকার রয়েছে। কাজের সময়ের যুক্তিসঙ্গত সীমা ও বেতনসহ নৈমিত্তিক ছুটি এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

ধারা-২৫
ক.নিজের ও নিজ পরিবারের স্বাস্থ্য ও কল্যানের নিমিত্তে পর্যাপ্ত জীবনমানের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান,চিকিৎসা ও প্রয়োজনিয় সামাজিক সেবামুলক কার্যাদির সুযোগ এবং বেকারত্ব,পীড়া,অক্ষমতা, বৈধব্য, বার্ধক্য অথবা অনিবার্য কারনে জীবন যাপনে অন্যান্য অপরাগতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এই অধিকারের অন্তর্ভূক্ত। 
খ.মাতৃত্বকালে ও শৈশব অবস্থায় প্রত্যেকের বিশেষ যতœ ও সহায়তা লাভের অধিকার রয়েছে। জন্ম বৈবাহিক বন্ধনের ফলে,বৈবাহিক বন্ধনের বাইরে সকল শিশুই অভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ করবে।

ধারা-২৬
ক. প্রত্যেকেরই শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে। অন্ততপক্ষে প্রাথমিক ও মৌলিক পর্যায়ে শিক্ষা অবৈতনিক হবে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামুলক হবে।কারিগরী ও বৃত্তিমুলক শিক্ষা সাধারনভাবে লভ্য থাকবে এবং উচ্চতর শিক্ষা মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য সমভাবে উম্মুক্ত থাকবে।
খ. ব্যাক্তিত্বের পুর্ন বিকাশ ও মানবিক অধিকার ও মৌলিক স্বাধিকার সমুহের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা পরিচালিত হবে। সমঝোতা,সহিঞ্চুতা ও সকল জাতি,বর্ন ও ধর্মীয় গোষ্ঠির মধ্যে বন্ধুত্ব ও উন্নায়ন এবং শান্তি রক্ষার্থে জাতিসংঘ কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করবে।
গ. যে প্রকার শিক্ষা তাদের সন্তানদের দেওয়া হবে তা পূর্ব থেকে বেছে নেওয়ার অধিকার পিতামাতার রয়েছে।

ধারা-২৭
ক. প্রত্যেকেরই গোষ্ঠিগত সাংস্কৃতিক জীবনে অবাধে অংশগ্রহন,শিল্পকলা চর্চা করা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও এর সুফলসমুহের অংশীদার হওয়ার অধিকার রয়েছে।
খ. প্রত্যেকেরই বিজ্ঞান,সাহিত্য অথবা শিল্পকলা-ভিত্তিক সৃজনশীল কাজ থেকে উদ্ভুত নৈতিক ও বৈষয়িক স্বার্থ সমুহ রক্ষনের অধিকার রয়েছে।

ধারা-২৮
প্রত্যেকেই এমন একটি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ব্যাবস্থার জন্য স্বত্ববান যেখানে এই ঘোষনাপত্রে উল্লিখিত অধিকার ও স্বাধীনতা সমুহ পূর্ণভাবে আদায় করা যেতে পারে।

ধারা-২৯
ক. প্রত্যেকেরই সমাজের প্রতি কর্তব্যাদি রয়েছে কেবল যারা অন্তর্গত হয়েই তার ব্যাক্তিত্বেও অবাধ ও পূর্ণ বিকাশ সম্ভব।
খ. স্বীয় অধিকার ও স্বাধীনতা সমুহ প্রয়োগকালে প্রত্যেকেরই শুধু ঐ ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকবে যা কেবল অপরের অধিকার ও স্বাধীনতা সমুহের যথার্থ স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে পারে। এরুপ সীমাবদ্ধতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নৈতিকতা,গণশৃংখলা ও সাধারণ কল্যানের ন্যায্য প্রয়োজন সমুহ মেটানোর উদ্দেশ্যে আইনের দ্বারা নিরুপিত হবে।
গ. এই সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগকালে কোন ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি লঙ্ঘন করা চলবে না।

ধারা-৩০
এই ঘোষনার উল্লিখিত কোন বিষয়কে এরুপভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যাতে মনে হয় যে,এই ঘোষনার অন্তভর্’ক্ত কোন অধিকার ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে কোন রাষ্ট্র,দল বা ব্যাক্তি বিশেষের আতœনিয়োগের অধিকার রয়েছে।

বিঃ দ্রঃ পরামর্শ কিংবা জিজ্ঞাসার জন্য ই-মেইল করুন : prp.info@undp.org

সমাপ্ত

09 December, 2011

নষ্ট মেয়ের কষ্ট...



নাম তার নার্গিস ! হ্যা নার্গিস আক্তার তবে বিদ্রোহী কবি নজরুলের সাথে কুমিল্লার দৌলতপুরে দেখা হওয়ার সাথে সাথে কবির প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া সেই নার্গিস নয়। চেহারার দিকে তাকালে নজরুলের প্রেয়সী নার্গিসের থেকে সুন্দরে কোন অংশে কম যায় না। চোখের দিকে তাকালে নয়নের চারিপাশের নক্ষত্রের মত জমে থাকা চকচকে হিরক খন্ডের শিতল চাহিনিতে রয়েছে অনায়েসে মন কেড়ে নেওয়ার অদৃশ্য শক্তি। ঠোট দুটির দিকে নজর দিলেই সদ্য অনাবৃত কমলার আঁশ ছাড়ানো আঁড়াআঁড়ি করে সাজনো পাটি দুটি যেন কোন মৃৎ শিল্পীর হাতের নিপুন কারুকাজ। চেহারার প্রতিটি অংশের আলাদা আলাদা উপমায় সুন্দর বিবরনে সাজাতে গেলে যে কেউ আমাকে হয় পাগল নয়তো হঠাৎ কাব্যিক হয়ে ওঠার অপবাদ দিতে গিয়ে পাঠকরা কি বলে ফেলেন! তাই ভনিতা না করে চলুন মুল প্রসঙ্গে,তবে এক কথায় মেয়েটির দিকে যে কেউ হঠাৎ তাকালেই বলতে বাধ্য অসাধারন,খুব সুন্দর একটি মেয়ে। আর তার বর্তমান কর্ম কাহিনি শুনে আক্ষেপ করে বলতেই হবে এরকম একটি মেয়ে কি করে এত অল্প বয়সে নষ্ট হল। তবে পুরো জীবন কাহিনী শুনলে হয়ত…..

সাংবাদিকতা পেশায় থাকার কারনে স্থানীয় পুলিশ ষ্টেশনের সাথে সম্পর্কের একটি অলিখিত চুক্তি হয়ে গেছে। প্রায়ই থানায় যেতে হয় বিভিন্ন সংবাদের সুত্র ধরে। ঠিক সেই মনোস্কামনা থেকেই ২০ ই সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটার দিকে আমাদের স্থানীয় থানায় গেলাম। ঠুকতেই করিডোরে পা দিতেই দৃষ্টি চলে গেলো ডান পাশের পাশাপাশি থানার দুটি সেলের দিকে,নজর যাওয়ার পিছনে আরো একটি কারন ছিল আর তা হল কোন এক মহিলা কন্ঠের কান্নার শব্দ। মহিলা সেলের দিকে তাকাতেই দেখলাম একটি প্রাপ্ত যৈবনা মেয়ে সেলের রড ধরে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। থানার ওসি থেকে শুরু করে প্রতিটি অফিসারের সাথেই রয়েছে আমার ভাল জানা শোনা,এর মধ্যে নিজের নামের সাথে মিল থাকায় এস,আই শহিদুলের সাথে রয়েছে বন্ধুত্বপুর্ন আলাদা একটি সম্পর্ক। আর তাই সরাসরি এস,আই শহিদুলের চেয়ারের সামনে বসতে বসতে জানতে চাইলাম সেলের মেয়েটির কান্নার রহস্য। তিনি জানালেন মেয়েটিকে অনৈতিক কাজের সাথে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দুজন দালাল সমেত থানায় নিয়ে আসার কথা। তিনি আরো বললেন একে থানায় এনে আরেক সমস্যা হয়েছে,শুধু কাঁদছে আর এর কান্নার কারনে থানায় তৈরি হয়েছে এক অপ্রীতিকর অবস্থার। দেখতে শুনতে ভাল হওয়ায় ভাল টাকার বিনিময়ে এই এলাকার কিছু প্রভাবশালী মানুষ তাকে অনেক দুর থেকে হায়ার করে এখানে নিয়ে এসেছে,তবে তাদের কাউকেই অভিযানের সময় ধরা যায়নি। দারোগার অনুমতি নিয়ে মেয়েটির সাথে কথা বলতে চাইলে দারোগা অনুমতি দিলে একান্তে প্রায় এক ঘন্টা সেলের সামনে দাড়িয়ে শুনলাম মেয়েটির জীবন কাহিনি। জানলাম আমাদের সমাজে আরো কত কি ঘটে যাচ্ছে আমাদের জানার বাইরে,যা হয়ত আমরা এত সহজে কিংবা খুব স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে নিজের মনের সাথেই করতে হবে যুদ্ধ।

আসুন এই নষ্ট মেয়েটির পরিচয় এবং পরিবার সম্বন্ধে জেনে নিই। এই বাংলাদেশের বৃহত্তর নোয়খালির বেগমগঞ্জ জেলার এক উপজেলার কোন এক পল্লি গ্রামের (এখানে পুরো ঠিকানা জানা সত্বেও দেওয়া হল না) সামসুল ইসলামের মেয়ে নার্গিস,বয়স সবে মাত্র ১৬। আর এই বয়সেই পার্থিব জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাত আর জীবন সম্বন্ধে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি পরিপূর্ণ থেকে পরিপূর্ণতার শেষ সিমায় পৌছেছে। পিতা সামসুল ইসলামের সাথে নার্গিসের মা নুরজাহানের বিয়েটা খুব একটা ধুমধাম করে না হলেও আত্মীয় স্বজন আর গ্রামের ময়মুরুব্বিরা ইসলামের শরা-শরিয়তের কোন ঘাটতি যাতে না থাকে সে দিকে যথার্থ নজর দিয়েই হয়েছিল। বিয়ের একটি বছর না ঘুরতেই নুরজাহানের কোল জুড়ে আসে নার্গিস কিন্তু এই অল্প সময়ের ব্যাবধানেই সামসুল ইসলামের আসল চেহারা চিনে নিতে কোন সমস্যাই হয়নি তার। তার স্বামী যে এক আজব পেশায় জীবন চালিয়ে আসছে এটা জেনেও মুখ বন্ধ করে সব সহজ ভাবে মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যান্তর ছিল না নুরজাহানের। স্বামীর ভিটা ছেড়ে বাপের বাড়ি ফিরে যাওয়া কিংবা কারো কাছে কৈফিয়ত দাবী করার আগেই বাবার বাড়ির করুন দুঃসহ অবস্থার চিত্র মনে করে আৎকে ওঠাই এর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সামসুর জিবনে নুরজাহান তৃতীয় বৌ হিসাবে আসলেও এর আগের দুই স্ত্রী তার অবৈধ ব্যাবসার পার্টনার হয়েই অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসাবে এক রকম বাধ্য মেশিনে পরিনত হয়ে দিন যাপন করে আসছে। আর এই প্রত্যাশায় নুরজাহানকেও চাপ প্রয়োগ করে বিফল হলেও অন্য রকম এক নতুন কৌশলে তার সিদ্ধান্তে অটল রইল সামসু। এরই ধারাবাহিকতায় এলাকায় মেম্বার,ওঠতি যুবনেতা এমনকি কিছু মাতব্বর টাইপের নষ্ট লোক গুলিকে নিয়েই চলতে থাকলো নুরজানকে দিয়ে টাকা উপার্জনের একটি ঘৃন্য ব্যাবসা। আর অভাবের যাতাকলে পৃষ্ট নুরজাহানও একটি সময় সব কিছু মুখ বুঝে স্বাভাবিক ভাবেই সহ্য করতে হল। এ ক্ষেত্রে এলাকার এক তরুন মেম্বার কামাল পাশা নুরজাহানের একান্তই সুখ দুখঃ এবং নিয়মিত কাষ্টমার হিসাবে হয়ে ওঠে অত্যান্ত কছের মানুষ। আর এভাবেই কেটে যায় প্রায় বছর সাত আট। এক সময় ছোট্র শিশু নার্গিসের জীবনে আস্তে আস্তে আসতে থাকে পরিবর্তন ক্রমেই কৈশরের দিকে ধাবিত হতে হতে একটি সময় তার শরিরের ভাঁজে ভাঁজে ফুটে ওঠতে থাকে নারীত্বের ষ্পষ্ট চিহ্ন। আর তখনই সেই লম্পট কামাল পাশার নজর পরে কিশোরি নার্গিসের প্রতি। একটি সময় নার্গিসের কৈশরিক দেহের নরম তুলতুলে পরশ পেতে মারিয়া হয়ে ওঠে মানুষ রুপি সেই হিংশ্র হয়নার সকল গুনাগুন সমৃদ্ধ কামাল পাশা। নুরজাহানকে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হল না তার,কারন অনেক ক্ষেত্রেই নুরজান ছিল কামাল পাশার কাছে দায়বদ্ধ। আর যা হবার তাই হল কোন এক কৌশলে নিজ মা হয়ে ওঠলেন নিজের মেয়ের সর্বনাসের প্রধান কারন। আর শুরু হল নার্গিস নামের একটি দুরন্ত কৈশরে বই হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে এক যায়গা হতে অন্য যায়গায় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা নতুন নতুন মানুষরুপি পিচাশ গুলির ভোগের পণ্য।

জীবনের নানা গল্পের বাঁকে বাঁকে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা বর্ননায় ওঠে আসে আমাদের সমাজ ব্যাবস্থার নরবরে ভিতের করুন আর্তনাদ। মেয়েটি এক পর্যায়ে জানালো আমি দেশের বাড়িতে গেলে গ্রামের মানুষ আমাকে বাবা ও মায়ের কৃতকর্মের জন্য আমাকেও সমানভাবে দোষী সাব্যস্থ করতে সামন্যতম দ্বিধাবোধ করে না। পাড়ার মেয়েরো আমার সাথে মিশতে চায় না এমনকি কেউ মিশতে চাইলে তাদের পরিবারের সদস্যরা উল্টো সেই মেয়েটির উপর চরাও হয় আর তাই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে নানা যায়গাতে ঘুরে বেড়াতেই বেশী ভাল লাগে। জীবনে বড় রাজনৈতিক ব্যাক্তি হতে শুরু করে সরকারী উচ্চ পর্যায়ের অফিসারও তার বাহুডোরে ধরা খেয়েছে বলেও জানায় সে। দাগ কাটার মত একটি ঘটনা বলতে গিয়ে সেলের রডে ধরে কান্না ভেজা মুখশ্রিতে হঠাৎ দেখা দিল এক টুকরো হাসি। সিলেটের কোন এক বড় হোটেলে এক দালালের সহায়তায় এক রাত্রে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। যথা সময়ে একটি রুমে ঠুকিয়ে দেওয়া হয়,রুমে ঢুকেই দেখি ইয়া বড় দাড়ি ওয়ালা এক হুজুর মত লোক গায়ে হাতাওয়ালা গেঞ্জি ও লুঙ্গি পড়ে বসে আছেন। যাই হোক রাত্রি যাপনের পরদিন সন্ধ্যার দিকে মার্কেটে ঘুরে কিছু কেনাকাটার পর রিকসায় হোটেলে ফেরার পথে দেখি এক যায়গায় বিশাল পেন্ডেলে ওয়াজ চলছে এবং সেই মাহফিলে বক্তৃতা করছেন গত রাতে আমার সাথে একই রুমে কাটানো সেই মাওলানা সাহেব।

কেউ যদি স্বেচ্ছায় যৌন সঙ্গমে মিলিত হয় এবং তা প্রমান হলে বাংলাদেশের দন্ড বিধির ২৯০ ধারা বলে ৫০/= (পঞ্চাশ টাকা)জরিমানা কিংবা অনাদায়ে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড। দারোগা সাহেব আক্ষেপ করে বললেন,বাংলাদেশে সব কিছুরই দাম বাড়ে কিন্তু ব্রিটিশ আমলের করা এই আইনটিতে জরিমানা কিংবা দন্ডের পরিমান বাড়ে না। আর তাই কখনও এরকম কোন ঘটনার কথা শুনে থানা হতে বের হতে মন চায়না।কারন মাত্র ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে আর যাই হোক তাদের সংশোধন করা সম্ভব নয়। আমাদের চারি পাশে একটু নজর দিলে এমন অনেক নার্গিসের দেখা মিলবে একটু সচেতনতার সাথে যদি তাদের খুজে এনে সমাজে পুনর্বাসন করা যায় হয়ত এই নার্গিসদের জন্ম ভবিষ্যতের জন্য এখনই রোধ করা যেতে পারে। আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন,পরিবর্তন প্রয়োজন সরকারের আইন কানুনেও।

ছেরা ডাইরির পাতা থেকে



০১.
ছোট বেলায় বিকেল হলেই নিয়মিত রুটিন করে বাড়ির পাশের নদীটির পাড়ে বসে সময় কাটানো একটি অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল। নদীর পারে বসে দুর দুরান্ত থেকে আসা পাল তোলা কিংবা গুন টেনে নিয়ে যাওয়া পণ্য বোঝাই নৌকা গুলি দেখতে পেলে চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত চেয়ে থাকতাম। সেই ছোট বেলা থেকেই ছড়া/কবিতা লেখার বৃথা চেষ্টা করে কত যে কাগজ আর কলমের কালি নষ্ট করেছি তা ভাবলে এখন আনমনেই হাসি আসে। একবার একটি কবিতার মত কিছু একটা লিখে নিজেই বিচার বিশ্লেষন করে অসাধারন আখ্যা দিয়ে কবিতাটি যে করেই হোক ছাপানোর অসাধ্য সাধনে তৎপর হতে গিয়ে অবশেষে চোর সাবস্থ্য হয়েই এর যথার্থ পুরস্কার পেলাম। এখনও সেই নদীর পাড়ে গিয়ে মাঝে মাঝে বসি পালতোলা কোন নৌকা আসবে সেই প্রত্যাশায় নয়,শহরের ধুলাবালী আর কোলাহল থেকে কিছুটা সময় প্রশান্তির মুক্ত হাওয়া বুক ভরে নেবো বলে মানুষের ভির থেকে পালিয়ে শীর্ণকার মৃত প্রায় এই নদীটির কাছে একটু আশ্রয়ের জন্য।
০২.
সময়ের বিবর্তনে দিনকে দিন প্রযুক্তির আশির্বাদে আমাদের ধ্যান ধারনা এবং মত প্রকাশের ধরন-ধারন সব কিছুই পাল্টে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে আমাদের দেশের মুসলমান মাত্রই প্রতিটি নাগরিক এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ঐ প্রতিবাদে আর সবার সাথে যুবক শ্রেণীর লম্বা চুলওয়ালা যাদের তখন আমরা আধুনিকতার ধারক বাহক হিসাবে চিনতাম তাদের অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মত। কারন তখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অন্তত এই বঙ্গদেশে প্রকট হয়ে ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করা এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বিষয়টি ছিল অনেকটাই সাধারনের বোঝার বাইরে। যারা ধর্ম নিয়ে কথা বলতেন তারা ছিলেন আমাদের পুর্ব পুরুষদের মত আমাদের কাছেও সমান পুজনিয়। কিন্তু আজকের এই দিনে আস্তে আস্তে করে সুকৌশলে ধর্মকে পুজি করে একটি গোষ্ঠি এর অপব্যখ্যা করে ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার লেলুপতায় অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সেই ধর্মের প্রতি আনুগত্য কমাতে সাহায্যই শুধু নয় সাথে কোন কোন ক্ষেত্রে আস্তিক থেকে নাস্তিক পর্যন্ত বানিয়ে দিচ্ছে।
০৩.
কিছু জানবো,কিছু বুঝবো,কিছু শিখব এবং কিছু সম্ভব হলে লিখবো ঠিক এই রকম একটি প্রত্যয় নিয়েই বহু পথ ঘুরে ফিরে অবশেষে আসলাম অন্তর্জালের বৃহত এই পরিমন্ডলে। যে কোন বিষয়ই জানতে হলে বুঝতে হলে কিছুটা সময় দিতে হয় স্বাভাবিক নিয়মেই। আর এই সময়ের দেওয়া নেওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ করে নয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম,আমার ছোটবেলার মানুষ্য দস্যুদের অমানবিকতার কাছে দখল হয়ে যাওয়া সেই নদীটির মতই প্রতিটি যায়গাতেই ভুমিদস্যুদের মত কিছু অমানুষ আমাদের চারপাশে ছায়ার মত নিবিরে ঘুনো পোকার ন্যায় ঝাজরা করে তুলছে আমাদের মুক্ত চিন্তার সবুজ নদীটিও। ভাবতেই গা ঘিন ঘিন করে ওঠে, আমরা কি কখনও আমাদের অস্তিত্ব বিলিন করার এই বেশ্যাবৃত্তি দেখে নিজেই নিজেকে আয়নায় দেখে মুখ লোকানোর বৃথা চেষ্টায় লজ্জায় লজ্জিত হওয়ার থেকে বাচতে পারছি ? হয়ত আমারা এটাকে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিয়ে আগামি কালকের আর একটি ভোরের আলোর অপেক্ষায় মুখ ধুয়ে লজ্জাকে পাতালা রেশমী ঝলমলে আবরনে আড়াল করে নেওয়ায় অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। আর কেউ জানুক আর নাইবা জানুক/আসুক আর নাইবা আসুক আমাকে যে সামনে এগিয়ে যেতে হবে,আমাকেই যে হতে হবে এই নির্লজ্জতার দৌড়ে প্রথম ।
০৪.
শরৎ কালের এক বিকালে নদী পাড়ে বসে শুভ্র সাদা কাশবনের কাশের দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে থেকে আনমনে ভাবছি,এত সুন্দর সৃষ্টি প্রভু শুধু আমাদের নয়ন জুড়াতে কত নিপুন ভাবেই না তৈরি করেছেন। আমার মত আরো কত মানুষের চোখের প্রশান্তির কারন হতে দেখে বলতে বাধ্য হলাম ধন্য তোমার জন্ম হে কাশবনের সাদা সৌন্দর্য। কয়েকদিন পরের ঘটনা হঠাৎ একদিন সকালে শুনি সেই কাশবনের কাছে হাজার মানুষের ভির,উৎসুক মনের জ্বালা মেটাতে গিয়ে যা দেখলাম তাতে কাশবন নিয়ে মনের অজান্তে অলিখিত সকল কবিতা নিমিষেই গদ্যে রূপান্তরিত হতে সময় লাগেনি একটুও। কিছু দুষ্ট লোকের অপকর্মের স্বীকার হওয়া এক যুবতীর প্রণহীন দেহ লুকানোর নিরাপদ জায়গা হিসাবে এই কাশবনকে বেছে নেওয়ার ঘৃন্য উদ্দেগকে দেখে সুন্দরের মাঝেই অসুন্দর লোকানোর এই প্রচেষ্টা শুধুইকি ওই কাশবনে সিমাবদ্ধ ? প্রত্যহীক জীবনের চলার পথে যেদিকে তাকাই সেদিকেই চোখে পরে সুন্দরের মাঝে বিকৃত অসুন্দর্য খুজে নেওয়ার মানষিকতা যেন বংশ পরম্পরায় নিবির ভাবেই আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে একাকার। আর এর ঘৃন্য সুযোগ হাতছারা করতে রাজি নন আমাদের নেতা নেত্রী,ধর্ম ব্যবসায়ী,বুদ্ধি বাজারের দোকানদার হতে ফুটপাতের ক্ষুদ্র হকারও।
০৫.
ক্ষমতার অন্ধত্ব আর লোভের কাছে আমজনতাকে পণ্য করে,নিজেকে হাসির পাত্র আর মুর্খতার শির্ষে নিয়ে সেই রাজার অবাক পোষাক পড়ে নিজে আহ্লাদিত হওয়ার এই কমেডি হয়তো আমাদের আরো বেশ কিছুদিন দেখতেই হবে। সাইড লাইনে বসে পঙ্গু বালকের ফুটবল ম্যাচের দৃশ্য দেখার সাথে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা কথার ফুলঝুড়ি শুনে নিজেদের প্রতিবন্ধি ভাবা ছাড়া আর কিইবা ভাবতে পারি আমরা। কেউ আল্লাহ রাসুলের দিব্যি আবার কারো ধর্ম গেলো-ধর্ম গেলোর তসবিহ জপা কিংবা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কাছে না ঘেষে নিন্দে করেই পার পাওয়ার চেষ্টা এই কোষ্ঠ কাঠিন্যের বদহজমি যেন আরো একধাপ বাড়িয়েই দিচ্ছে। বুদ্ধিজিবির বুদ্ধি বাজারে আর সব কিছুর মতই উর্দ্ধ গতির পাগলা ঘোড়ার পদতলে পৃষ্ট আম জনতার হাপিত্যেষ করা উপুর টান শেষ মুহুর্তের অপেক্ষায় মাত্র। তার পরও রাত আসে,চাঁদও দেখা যায়,মাঝে পূর্নিমার আধো আলোয় আর আমবশ্যার নিরেট অন্ধকারে হাতরে পা টিপে টিপে এগিয়ে চলছি,হয়ত একদিন সব কিছুরই শেষ হবে,শেষ হতেই হবে কারন শুরু হলেই যে শেষ করতে হয়। 
০০.
বাঙ্গালী বলে কথা যেন কই মাছের প্রান,কি হবে এতা ভেবে বাদ দাও খুব ভোরে ওঠতে হবে ঘুমাওতো এখন……….।

28 February, 2011

বিশ্ব কাপ-২০১১


৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধ,বাঙ্গালী রমণীরা রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা। কখনও তাদের স্ব-প্রনোদিত অংশগ্রহণ কিংবা স্বামী,সন্তান ও প্রেয়সীকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্যে যুদ্ধে যোগিয়েছে অনুপ্রেরনা,দিয়েছে আনেক আতœত্যাগ। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ,স্কুল,ব্যাবসা-বানিজ্য,শিল্প-কারখানা ও রাজনিতিতে এখন পর্যন্ত নারীদের অংশগ্রহণ উন্নায়নশীল অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। আর সেই দেশের নারীরা দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলার দামাল ছেলেদের উৎসাহ যোগতে মাঠে না গিয়ে ঘরে বসে থাকবে এটা ভাবাই যায় না। তাই বিশ্ব কাপের অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচেই পুরুষদের পাশাপাশি উল্ল্যেখ করার মত নারি দর্শকের মাঠে উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মত। আর এতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আতœবিশ্বস বাড়াতে সাহায্য করেছে অনেকটাই এটা বলা চলে নিঃসন্দেহে। এই নারী দর্শকদের উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে আবারও প্রতিষ্ঠিত হল-বাংলাদেশ কোন উগ্র ধর্মীয় অনুশাষনের দোহাই দিয়ে নারীকে ঘরে বন্দি করে রাখার মন-মানষিকতা পোষন করে না। তাছাড়া শালিনতা আর ভদ্রভাবে যে কোন অনুষ্ঠানেই বঙ্গালী পুরুষের পাশাপাশি রমনিদের উপস্থিতি বাংলা সংস্কৃতির ধারক-বাহকও বটে। মৌলবাদী ও উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠির কাছে হয়ত এই বিষয়টি এত সহজে মেনে নেওয়া কিংবা এর বিরোদ্ধে সোচ্চার বিরোধিতা আসাটাই ছিল স্বাভাবিক,কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের এই কর্য্যক্রম হালে পানি পাবে না তাও তার বুঝতে পরছে। চার দেয়ালে বন্দি করে রাখার মন মানসিকতা এখনও যাদের মনের কোনে আছে বা ছিল তারা পারিপার্শি¦ক অবস্থা দেখে অনেক আগেই পিছু হটেছেন কারন বাংলাদেশে এমন কোন পেশা নেই যেখানে নারী উপস্থিতি কম-বেশী নেই,সফলতাও এসেছে কাংক্ষিত। শুধু মাঠে নয় ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখতে দেখতে তসবিহ হাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শুভ কামনায় চোখের জল ফেলেছে আনেক মা। পরিশেষে শুধু বলতে চাই অনেক কিছু হারিয়ে আমরা পেয়েছি বাংলা ভাষা, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি বাংলাদেশ-্এবার এই বাংলার দামাল ছেলেরাই বাংলা ভাষা আর বাংলাদেশকে তুলে ধরবে বিশ্ব বাসির কাছে “আমরাও এগুতে জানি,অমরাও কিছু করতে পারি”। সাবস বাংলাদেশ এগিয়ে চল তোমরা ১১জন সাথে আছে ১৬ কোটি বাঙ্গালীর হৃদয় নিংরানো ভালোবাসা আর মা-ভোনের দোয়া আশির্বাদ। ৫২-৭১ এর পর এই যুদ্ধে জয়ী আমরা হবই-হতেই হবে,শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রাজনিতির গ্যাড়াকল

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গেলে ভুলে যায়!!

 ভূমিহীন সংগঠনের সম্মেলন বক্তারা


            বড় দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুক্তির কথা বলে, তাদের অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, সংস্কৃতির প্রানবন্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার কথা বলে। ক্ষমতায় গিয়ে তারা ধনিক গোষ্ঠীর তাবেদারী করে, ধনিকেরা আরো ধনি গরিবকে আরো গরিব বানানোর আইন প্রণয়ন থেকে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়নে ব্যস্ত থাকে। রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় নেতা কর্মী, সন্ত্রাসী- ক্যাডার-মাস্তানরা  সুবিধাভোগ করে আর   আমরা দরিদ্র ও ভূমিহীনরা সব সময়ই সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছি।  দেবিদ্বার উপজেলা গোমতী পাড়ে লক্ষিপুর ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তারা ওই বক্তব্য তুলে ধরেন।

           বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় সীমাবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কালোবাজারী ও ব্যবসায়ীদের সাথে আপোষ করেছে, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতী রোধের ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ্য দেড় যুগধরে গোমতীপাড়ের আশ্রীতদের পুনর্বাসনের দাবীতে আন্দোলনের কথা সংসদ পর্যন্ত গড়ালেও বাস্তবায়নের আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাইনি। রাজনৈতিক বিবেচনায় খাস জমি বিতরন হচ্ছে, প্রকৃত ভূমিহীনরা সে বিবেচনায় অনুপস্থিত। বক্তারা ৭২’র অক্ষত সংবিধান পূনর্বহাল এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানান।

          লক্ষিপুর ভূমিহীন সংগঠন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পরেশ রঞ্জন কর, বাংলাশের কমিউনিস্ট পার্টি দেবীদ্বার উপজেলা কমিটির সভাপতি আবুল বাশার, নিজেরা করি সংস্থার কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ, আওয়ামীলীগ দেবীদ্বার উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ন্যাপ নেতা আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান, ভূমিহীন নেতা তজু মিয়া, আবুল কাসেম, আব্দুল অদুদ, আবুল হাসেম রাহেলা বেগম প্রমূখ।

27 February, 2011

ভিপি কামাল


মহান স্বাধীনতার চেতনায় লালিত ক্রীড়া,সংস্কৃতি সমাজকল্যাণমুলক ও মাদক বিরোধী শিশু-কিশোর-যুব সংগঠন “স্বাধনিতা সংসদ” কতৃক প্রদত্ত একুশে স্বর্ণপদক ২০১১ ইং পেলেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যনের খেতাব প্রপ্ত দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান এ,কে,এম শফিকুল আলম কামাল।

গত ২৫ই ফেব্রোয়ারী ২০১১ ইং বিকাল ৫ ঘটিকায় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে “মাতৃভাষা আমার অহংকার, মাতৃভাষা পৃথীবির অলংকার”শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও একুশে স্বর্ণপদক-২০১১ বিতরন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের মানণীয় প্রতি মন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির। অনুষ্ঠানরি শুভ উদ্বোধন করেন ৫২‘র রাষ্ট্রভাষা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও মহান ভাষা সৈনিক ড.আব্দুল মতিন। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন মহান ভাষা সৈনিক প্রফেসার ডাঃ মির্জা মাজহারুল ইসলাম। উক্ত অনষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্ব-স্ব অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখায় বেশ কয়েকজন গুনি ব্যাক্তিকে একুশে স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় সম্বন্নীত উন্নায়ন ফাউন্ডেশন কতৃক বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান পুরুস্কার প্রাপ্ত জনাব এ,কে,এম শফিকুল আলম কামাল এর হাতে এই অনারম্বর অনুষ্ঠানে ২১‘শে স্বর্ণপদক তুলে দেন ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন।  এ সময় বিশিষ্ট সমাজ সেবক,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব,সাংবাদিক সহ বিপুল জনগেষ্ঠির উপস্থিতির অনারম্বর অনুষ্ঠানটি উপন্থাপনা করেন স্বধীনত সংসদের মহাসচিব সাহেদ আহম্মদ।

23 February, 2011

local sarvise

tasting vedio........

22 February, 2011

দিবা স্বপ্ন




বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় খালেদা জিয়া বলেছেন, তিউনিসিয়ার মতো বাংলাদেশের বর্তমান শাসকশ্রেণীকেও পালিয়ে যেতে হতে পারে। কিংবা মিসরের মতো মানুষ বিক্ষোভমুখী হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশেও। B`vwbs Aek¨ Zvi `‡ji †ek wKQz †bZv‡`i gy‡LI GKB eywj ïbv hv‡”Q। আমরা জানি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াত-বিএনপি জোট ২০০১-২০০৬ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল। এরপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান মহাজোট ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার এমন কোন স্বৈরাচারী সরকার নয় যার তুলনা তিউনিস কিংবা কায়রোর সঙ্গে করা চলে।  তিউনিসিয়ার শাসক জইন আল আবেদিন বিন আলির পতন ঘটেছে। তিনি গেল ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিউনিসের তখত জুড়ে বসেছিলেন। তার পরিবারের বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি রাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এর পরপরই কেঁপে উঠেছে মিসর।
মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক সে দেশের গদিতে গেল প্রায় তিন দশক ধরে। মানুষ পরিবর্তন চাইছে। বলা হচ্ছে, মিসরে উস্কানির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। তা আছে কিনা, তার সত্য-মিথ্যা নির্ণয় করা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন পরোক্ষভাবে বলেছেন, কোনভাবেই যেন কায়রোতে প্রাণহানি না ঘটে। সেনাবাহিনী যেন মিসরীয়দের ওপর হামলা না করে। পৌর করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করার পর খালেদা জিয়ার মনোবল কিছুটা বেড়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে নবীগঞ্জ-বাহুবল (হবিগঞ্জ-১) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার ঘটনাও তার পালে হাওয়া লাগিয়েছে। নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনটির এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক দেওয়ান ফরিদ গাজী। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার জন্ম মাটি এ আসনে, তার পুত ড. রেজা কিবরিয়ার নাম এসেছিল। এসেছিল দেওয়ান ফরিদ গাজীর পুত্র দেওয়ান শাহ নেওয়াজ গাজী মিলাদের নামও। প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন সুরঞ্জন দাশ। না, তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেয়া হয়নি। আমার মতে, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে ধস নামার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণটি হচ্ছে, আওয়ামী লীগের একলা চল নীতি। কারণ আওয়ামী লীগ মহাজোটের নামে নির্বাচন করে যৌথভাবে ক্ষমতায় এলেও তাদের একক আসন সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ থাকায় তারা মহাজোটের প্রয়োজনীয়তা বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে হবিগঞ্জ-১ আসনের কথাই বলা যায়। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মুনিম চৌধুরী প্রায় ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মুশফিক হেরেছেন মাত্র দেড় হাজার ভোটের ব্যবধানে। এ উপনির্বাচন কিংবা পৌর মেয়র নির্বাচন জানান দিয়ে গেছে, মহাজোটের ঐক্য এখনো কতটা অপরিহার্য।মনে রাখা দরকার আওয়ামী লীগের সিনিয়র, প্রভাবশালী নেতাদের অনেকের আসনেই পৌর মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চরম ভরাডুবি হয়েছে।এর নেপথ্য কারণ খোঁজা খুবই জরুরি।
আড়িয়ল বিলে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ ইস্যুটির প্রকাশ্য বিরোধিতা  করেছেন খালেদা জিয়া। আমরা দেখেছি  আড়িয়ল বিল অঞ্চলের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। খালেদা জিয়ার ভাষায়, 'ঢাকা বিমানবন্দরকেই আরও মানসম্মত করা যায়। নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজন কী? তবে বিশেষ কোন ব্যক্তির নামে স্থাপনা নির্মাণ বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু যখন রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পাচ্ছে তখন যেনতেন যে কোন ইস্যুতেই সরকারের চেইন অফ কমান্ডের ওপর আঘাত হানতে বিরোধীপক্ষ তৎপর হতেই পারে।
বাংলাদেশের মানুষের মনে আছে খালেদা জিয়া কীভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন করে দেশের মানুষকে বোকা বানিয়েছিলেন। নিজেই সেই স্বৈরাচারী মনোভাবের কথা ভুলে গিয়ে এখন তিনি গণতান্ত্রিক সরকারকেই নসিহত শোনাছেন! বলা দরকার, চরম জঙ্গিবাদীদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা না করলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সংসদীয় আসন ত্রিশের কোটায় নেমে আসত না। বিএনপি মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং কট্টর জঙ্গিবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে এ প্রজন্মের মনে যে ভীতি সঞ্চার করেছে, তা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগেরও ক্ষমতা পেয়ে খুব বেশি আহলাদিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ দুই বছর শেষ হয়েছে। বাকি তিন বছরে দলে এবং সরকারে শৃঙ্খলার শীর্ষতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে জনগণ ভিন্ন চিন্তা করতে বাধ্য হবে। আর সেই আলোকে মন্ত্রিপরিষদে অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং মহাজোট নেতাদের আরও কাজ করার সুযোগ দেয়া খুবই দরকারি বিষয়।